কুরবানির নিয়ম কানুন এবং ঈদ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

কুরবানীর ঈদ মুসলমানদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।এর মাধ্যমে মানুষ তার গুনাহ মাপ করে। একটু ভুলের কারনে আপনি সওয়াবের, বদলে গুনহার ভাগিদার হতে পারেন। তাই যে ভাবে ঈদ পালন করলে, সৃষ্টি কর্তা খুশি হবেন সেই ভাবেই পালন করবে। কুরবানির নিয়ম কানুন এবং ঈদ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

ঈদুল আযহা বা কুরবানের ঈদ

মুসলীমদের বছর সবচেয়ে বড়  দুটি ধর্মীয় উৎসব, এর মধ্যে দ্বিতীয় উৎসব টি হলো ঈদুল আযহা। চলতি কথনে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদনামেও পরিচিত। এই উৎসবকে ঈদুজ্জোহাও বলা হয়। ঈদুল আযহা মূলত আরবি বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ‘ত্যাগের উৎসব’। এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ত্যাগ করা। এ দিনটিতে মুসলমানেরা ফযরেরনামাযের পর ঈদগাহে গিয়ে দুই রাক্বাত ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করে ও অব্যবহিত পরে স্ব-স্ব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও উটআল্লাহর নামে কোরবানি করে। কুরবানির নিয়ম কানুন এবং ঈদ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

ঈদের নামাজ

মুসলিমগণ ঈদুল আযহার নামাজ মসজিদে বা খোলা মাঠে আদায় করে থাকেন। ঈদের নামাজ জ্বিলহজ্জের ১০ তারিখে, ফয়জরের নামাজের পর সূর্য উদয়ের পর থেকে যোহর নামাজের সময় হবার আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে যে কোনো সময় আদায় করা হয়ে থাকে। কোনো কারণবশত (উদাহরণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ) নামাজ আদায় করা না গেলে ঈদুল আজহার নামাজ ১২ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ঐ সময়ের মধ্যে আদায় করা যাবে। ঈদের নামাজের আগে মুসল্লিরা জোরে জোরে “তাকবীর” উচ্চারণ করে।

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু,
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,
ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

ঈদের নামাজ দুই রাক্বাত। এটি ওয়াজিব নামাজ। তা জামায়াতের সঙ্গে ছয় অতিরিক্ত তাক্ববিরের সঙ্গে পড়তে হয়। ঈদের নামাজ শেষে ইমামের জন্য খুৎবাপড়া সুন্নত ও মুছুুল্লিদের জন্য খুৎবা শোনা ওয়াজিব।

যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব

ইসলাম মতে ঈদুল আযহার দিনে যার যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে অর্থাৎ যার কাছে ঈদের দিন প্রত্যূষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা সমপরিমাণ সম্পদ (যেমন জমানো টাকাা) আছে তার ওপর ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশু কুরবানি করা ওয়াজীব। ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দুইদিন পশু কুরবানির জন্য নির্ধারিত। মুসাফির বা ভ্রমণকারির ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব নয়| ঈদুল আযহার নামাজ শেষে কুরবানী করতে হবে। ঈদুল আযহার নামাজের আগে কুরবানি করা সঠিক নয়।

কোরবানির পশু

বাংলাদেশের মুসলিমরা সাধারণত গরু ও ছাগল কুরবানি দিয়ে থাকেন। এছাড়া কেউ কেউ ভেড়া, মহিষ, উট, দুম্বাও কোরবানি দিয়ে থাকেন। গরু মহিষ ভেড়া,উট,যাই কুরবানির জন্য ক্রয় করবে তা অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে। অসুস্থ পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে না।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ আর বাংলাদেশে কোরবানির উপযোগী পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লক্ষ।২০১৮ সালে বাংলাদেশে কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫ লাখ।

শরিকের নিয়ম।

 এক ব্যক্তি একটি গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কুরবানি করতে পারেন। তবে গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ ভাগে কুরবানি করা যায় অর্থাৎ ২, ৩, ৫ বা ৭ ব্যক্তি একটি গরু কুরবানিতে শরিক হতে পারেন। কুরবানির ছাগলের বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে।

কোরবানির পশুর যে সব যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি করা জায়েজ না

 1 কুরবানীর পশু সুস্থ থাকতে হবে অসুস্থ পশু কোরবানির জন্য জায়েজ না।
 
2 অন্ধ হলে কোরবানি জায়েজ না

3 কানে না শুনলে কোরবানি জায়েজ না

 4 ল্যাংড়া হলে কোরবানি জায়েজ না

5 পশুর লেজ অধিকাংশ কাটা থাকলে কুরবানি জায়েজ না।

 6 কান অধিকাংশ কাটা থাকলে কোরবানি জায়েজ না।

 7 শরীরের কোন অংশে কোন রোগ থাকলে কুরবানী জায়েজ না।

8 জন্মগত ভাবে শরীরের কোন অংশ না থাকলে যেমন কান চোখ ইত্যাদি

পশু জবাই

 নিজ হাতে কুরবানির পশু জবাই করা ভাল। কুরবানি প্রাণীর দক্ষিণ দিকে রেখে কিবলামুখী করে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করতে হয়।

কোরবানির পশুর মাংস ভাগ বা বিতরণ

সাধারণত আমাদের দেশে কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে ১ ভাগ গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ১ ভাগ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এবং ১ ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়। তবে মাংস বিতরণের কোন সুস্পষ্ট হুকুম নেই কারণ কুরবানির হুকুম পশু জবেহ্‌ হওয়ার দ্বারা পালন হয়ে যায়। কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ দান করে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কোরবানির পশুর মাংস কাউকে বিতরন করতে হবে। এমন কোনো প্রথা নেই তবে আপনার নিজ, সাধ্য অনুযায়ী আপনি যত টুকু পারেন বিতরণ করবেন।

কোরবানির পশুর ময়লা নিষ্কাশন করা।

একটা দিকে আমরা সবাই খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানির পশুর ময়লা আর্বজনা যেখানে সেখানে না, পেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলতে পারলে, কোন এক জায়গায় পুতে ফেলতে হবে। যেন  আপনার জন্য এলাকায় বা সমাজের লোকে কোনো ক্ষতি না হয়। এর কারণে ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার মানুষের অনেক ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজে পরিষ্কার থাকুন অন্যকে পরিষ্কার রাখার জন্য থাকার জন্য  উদ্বুদ্ধ করুন। ( নদোনা নোয়াখালী ক্লিনার)

এই ধরনের আরো আপডেট পেতে আমার ওয়েবসাইট পহেলা ডট ইনফো এর সাথে থাকু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *