পাসপোর্ট করার নিয়ম

আমরা যারা দেশের বাহিরে  ভ্রমণ,  কাজ বা  হজ্জে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তারা অবশ্যই পাসপোর্ট বানাতে হবে। পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশে যাওয়া ইম্পসিবল,তাই পাসপোর্ট করার নিয়ম গুলো জেনে নিন।

আমরা সাধারণত পাসপোর্ট দালালের হাতে করাই, এতে দালাল আমাদের কাছ থেকে টাকা বেশি নেয়, আবার টাকার কোনো সমস্যা হলে দালাল,পাসপোর্ট দিতে  সমস্যা করে। তাই দালালের হাতে পাসপোর্ট বানাতে না দেওয়া, নিজে আমার দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী নিজে কাগজপত্র তৈরি করে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন।  আর যদি আপনার পাসপোর্ট জরুরি প্রয়োজন হয়, তা হলে আপনি পাসপোর্ট দালালের হাতে করাটাই ভালো। আর না হয় আমার দেওয়া পাসপোর্ট করার নিয়ম মেনে কাজ করতে পারেন।

পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম

আবেদন অনলাইনে দাখিল করার সময়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে। পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশস্থ পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।

অনলাইনে আবার দুটো পদ্ধতি আছে। একটা হল সরাসরি www.passport.gov.bd সাইটে ফরম পুরনের শেষের দিকে তখনই বিভিন্ন ব্যাংকের গেটওয়ে ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করা যায়। এখানে কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে ফি দেয়া যায়। তবে প্রায় সবাই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি রেখে দেয় তাদের চার্জ হিসেবে। এখানে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ও বিকাশ, রকেট দিয়ে পে করতে পারবেন। তবে আপনি খুব টেকনিক্যাল না হলে এটাতে চেষ্টা না করাই উত্তম।

আরেকটি পদ্ধতি হলো http://echallan.gov.bd এর মাধ্যমে । এখানে ওরা সোনালী ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গেটওয়ে ব্যাবহার করে। এখানে সোনালী ব্যাংকের কার্ড, ভিসা, মাস্টারকার্ড, কিউক্যাশ, ডিবিবিএল নেক্সাস কার্ড, রকেট ও বিকাশ ব্যবহার করে ফি দিতে পারবেন।
অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও
আপনি এই ব্যাংক গুলোতে খুব সহজে  টাকা জমা দিতে পারবেন

ওয়ান ব্যাংক,
প্রিমিয়ার ব্যাংক,
সোনালী ব্যাংক,
ট্রাস্ট ব্যাংক,
ব্যাংক এশিয়া
এবং ঢাকা ব্যাংকে
 নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে

পাসপোর্ট করার খরচ

পাসপোর্ট আবেদন সাধারণত দুই ধরনের হয়। সাধারণ ও জরুরী। এই আবেদনের ধরনের উপর নির্ভর করে খরচ।

১. সাধারণ

সাধারণ পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ফি দিতে হয় ৩,৪৫০ টাকা এবং ২১ কর্ম দিবসের মধ্য পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার ডেইট দিয়ে থাকে। যদিও আপনি নিজে করলে ২১ দিনে পাওয়ার সম্ভাবণা খুবই কম। সাধারণত ৪০-৫০ দিনের মত লাগে। অনেকে এর আগেও পায় যদি ভাগ্য ভালো থাকে।পুরো পাসপোর্ট করার নিয়ম পড়ে নিন।

২. জরুরী

জরুরী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি দিতে হয় ৬,৯০০ টাকা এবং ৭ কর্ম দিবসের মধ্য পাওয়ার ডেইট দিয়ে থাকে। যদিও নিজে করলে ১৫-২০ দিনের মত লাগে হাতে পেতে।

পাসপোর্ট করার জন্য কি কি প্রয়োজন

পাসপোর্ট করার জন্য আবেদনের স্বপক্ষে আপনাকে কিছু  কাগজপত্র জমা দিতে হবে। জেনে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন ।

পুরনকৃত পাসপোর্ট ফরম (২ কপি)
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি
ন্যাশনাল আইডি/স্মার্ট কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন এর সত্যায়িত ফটোকপি
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গাড়িচালক ও অন্যান্য পেশার লোকদের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদের
সত্যায়িত ফটোকপি
সরকারী চাকুরীজীবীদের জন্য NOC বা Government Order-সরকারি আদেশ (GO/জিও) দিতে হবে
নাগরিক সনদপত্র (আসল বা সত্যায়িত ফটোকপি). (যদিও অফিশিয়ালি এটা দেয়ার কথা কোথাও লিখা নাই তবে পাসপোর্ট অফিসে এটা চায়। )

আবেদন পত্র জমা দেয়ার সময় সকল কাগজের মূল কপি সাথে রাখ ভাল। অনেকসময় আবেদন গ্রহনের সময় এটা দেখতে চায়।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ

আবেদন  ফরমটি আপনি তিন ভাবে পূরণ করতে পারবেন

১।.হাতে লেখার মাধ্যমে
কম্পিউটার দোকান থেকে ফরম কিনে এনে আপনি ফরম পূরণ করতে পারেন

 ২।…http://dip.portal.gov.bd/sites/default/files/files/dip.portal.gov.bd/forms/1814a4e6_495e_4dfa_b013_537f4cb297c0/Editable_MRP_Application_Form%5BHard%20Copy%5D_converted.pdf
  এই লিংক টির মাধ্যমে পিডিএফ পাইল ডাউনলোড করে। এ ফাইলটি এডিটেবল অর্থাৎ পিডিএফ ফাইল আপনি,

 ফরমটি পূরণ করতে পারবেন। তবে পূরণ করার পর সেভ করে রাখা যাবে না। তাই সাথে সাথে প্রিন্ট করতে হবে ফরম পুরণ হয়ে গেলে ফরমটি দুটি কফি কালার প্রিন্ট করুন।

৩।.. এই www.passport.gov.bd ওয়েবসাইট লিংকে গিয়ে সরাসরি ফরম পূরণ করতে পারবে, এক্ষেত্রে পূরণ করা শেষে সেব বা  সাবমিট অপশনে ক্লিক করল। ফরমটি আর সংশোধন করার সুযোগ নে। তাই সাবমিট কিক্ল করার আগে সবকিছু ঠিক আছে কিনা কয়েকবার যাচাই করে নিন এবার আপনার কাছে একটি পিডিএফ ফাইল চলে আসবে পরে ফিন্ট করতে চাইলে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে রেখে দিন। আর সাথে সাথে প্রিন্ট করতে চাইলে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

পাসপোর্ট ফরম এবং সংযুক্তি সত্যায়িত করা.

আপনি যদি সঠিক ভাবে ফর্ম রেডী করে রাখেন তাহলে এবার সেগুলো সত্যায়িত করে নিতে হবে। আবেদন ফর্ম দুই সেটের সাথে আপনার জন্ম নিবন্ধন/ন্যাশনাল আইডি কার্ড,

 নাগরিক সনদের ফটোকপি পিন দিয়ে লাগিয়ে নিন। এবার পাসপোর্ট অফিস থেকে অনুমোদিত যে কারো কাছে ফর্মের সেট দুটি নিয়ে সত্যায়িত করে নিন।

 যে সকল ব্যক্তিগণ পাসপোর্টের আবেদনপত্র ও ছবি প্রত্যায়ন ও সত্যায়ন করতে পারবেন – সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র,

ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, গেজেটেড কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পৌর কাউন্সিলরগণ,

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক,

নোটারী পাবলিক ও আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের গ্রেডের কর্মকর্তাগণ।

আবেদন ফরম পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়া

আপনার ফরম পূরণ করা শেষ হলে, এবার আপনার কাজ হলো, আবেদন ফরমটি পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়া।

আবেদন ফরম জমা দিতে যেতে হবে যে পাসপোর্ট বানাবে সে নিজে গিয়ে সে ছাড়া অন্য কেউ গেলে, তা গ্রহণযোগ্য না।

 তাই সে নিজে গিয়ে আবেদন ফরম জমা দিতে  হবে। আবেদন ফরম পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়ার সময় যা যা করতে হয়।

আমি যখন পাসপোর্ট অফিসে ফরম, জমা দিতে গিয়েছিলম। তখন আমাকে যা করতে হয়েছে। আমি প্রায় সকাল ৭ টার দিকে,

 পাসপোর্ট অফিসের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। কারন আমার বাড়ি থেকে পাসপোর্ট অফিসের, দূরত্ব অনেক প্রায় ১ ঘন্টার পথ ।

 এর পর প্রায়  ৮:৩০ মিনিটের দিকে পাসপোর্ট অফিসের সমনে গিয়ে দাড়ালাম, পাসপোর্ট অফিসে খোলে ৯টা বাজে,

 সেখানে গিয়ে দেখি আমার  আগে অনেক, মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। যাইহোক ৯টা বাজার পর অফিস খুলেন তারা, অনেক বড় লাইন দাঁড়িয়ে আছে।

 পরে ছিলাম আমি, সেখানে কয়েকটা কাউন্টার আছে তারা কাগজপত্র দেখে বিভিন্ন যায়গায়, চিল সিগনেচার দিয়ে একটা টোকেন দেন ।

 বলে আরেকটা  রুমে যেতে সেখানে গিয়ে দেখি তিন চারজন, টেবিলে কম্পিউটার আর কেমরা নিয়ে বসে আছে,

আমি তাদের সামনে গিয়ে চেয়ারে গিয়ে বসচি,আমাকে দেওয়া কাগজ দিলাম পরে কেমরা দিয়ে আমার ছবি তুললো,

আর আমার হাতের সব  গুলো আঙুলের ফিঙ্গারপিন  নীলো আর ছোট একটা মিশনে কলম দারা আমার সিগনিচার নিলো,

এবং আমাকে একটা প্রিন্ট করা কাগজ দিয়ে বললো এখন যাও, পাসপোর্ট হয়ে গেলে অফিস থেকে, আপনার মোবাইল নাম্বারে মেসেজ যাবে। 

পুলিশ ভেরিফিকেশন কি

পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা দেওয়ার পর তা ভেরিফকেশন করার জন্য, পুলিশ আপনাকে ডাকতে পারে।

বা আপনার বাড়িতে জেতে পারে, তারা আপনি যে কাগজ জমা দিয়েছে তা সঠিক কি না তা যাচাই করার জন্য,

পুলিশ কর্মকর্তার আপনার বাড়িতে আসতে পারে, হয়তো আপনার নাগরিকতা আছে কি না তা যাচাই করে।

তাই পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে কোনো টেনশন করার নাই। আর একটা দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যেই পুলিশ কর্মকর্তার আপনার ভেরিফিকেশন করতে আসবে,

সেই ব্যক্তিকে কোনো রকম টাকা দিবেন না, আর যদি আপনার কাছ থেকে সে কিছু  টাকা দাবি করে আপনি সাথে  সাথে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করবেন। আমার দেওয়া পাসপোর্ট করার নিয়ম গুলো জেনে রাখুন।

আরো পড়ুন----  দরখাস্ত লেখার নিয়ম ২০২০| আবেদন পত্র লেখার নিয়ম

পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করা

এবার পাসপোর্ট পাওয়ার ম্যাসেজের জন্য অপেক্ষা করুন। সাধারণত পাসপোর্ট আসার সময় ৪০-৪৫ এর বেশি কখনো হয় না।

এর বেশি সময় হলে আপনি পাসপোর্ট অফিসের, যে কোনো কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। তা হলে আপনি

 পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন৷ আর না হয়, অনলাইনে মাঝে মাঝে ঢুকে আপনার,পাসপোর্ট এখন

 কোন অবস্থায় আছে দেখুন। এই লিঙ্কে গিয়ে  http://www.passport.gov.bd/OnlineStatus.aspx

পাসপোর্ট কিভাবে সংগ্রহ করা হয়

আপনার পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে, পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনার দেওয়া,মোবাইল নাম্বারে মেসেজ চলে আসবে।

মেসেজে বলা থাকবে আপনার পাসপোর্ট সম্পূর্ণ হয়ে, আপনি এসে আপনার পাসপোর্ট নিয়ে জেতে পারেন। ছবি তোলার সময়,

 আপনাকে যেই রিচিট দেওয়া হয়েছিল, আপনি সেই রিচিট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে চলে জাবেন, এবং এই রিসিট টা জমা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসবেন।

এই ধরনের আরো আপডেট পেতে আমার ওয়েবসাইট পহেলা ডট ইনফো এর সাথে থাকুন। আমার ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *