রক্তদানের উপকারিতা

স্বেচ্ছায় নিজের রক্ত অন্য কারো প্রয়োজনে দান করাই রক্তদান। তবে রক্তদাতাকে অবশ্যই পূর্ণবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স হতে হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। তবে রক্তদানের পদ্ধতি ও পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অযথা    ভীতির কারণে অনেকেই রক্ত দিতে দ্বিধান্বিত হন। কিন্তু রক্তদানেরও যে উপকারিতা রয়েছে, সে কথা আমরা কয়জনই বা জানি?

 রক্তদানের উপকারিতা সমূহ :-

১। রক্তদানে কোনো সমস্যা হয় না। কেননা একজন সুস্থ মানুষের শরীরে পাঁচ-ছয় লিটার রক্ত থাকে। এর মধ্যে সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিলিটার রক্ত দান করা হয়, যা শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ। রক্তের মূল উপাদান পানি, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়।


২। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রক্তদানের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ‘বোনম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়, ঘাটতি পূরণ হয়।

৩। বছরে তিনবার রক্তদান শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে ও নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়ায়।

৪। নিয়মিত রক্তদানকারীর হার্ট ও লিভার ভালো থাকে।

৫। স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পাঁচটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা খরচে করা হয়। এর মাধ্যমে জানা যায় শরীরে অন্য বড় কোনো রোগ আছে কি না।

 যেমন—হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

৬। রক্তদান অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

৭। রক্তে কোলস্টেরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে।

৮। শরীরে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতিকে বলে Hemochromatosis। নিয়মিত রক্তদান এই রোগ প্রতিরোধ করে।

৯। স্থূলদেহী মানুষের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে সাহায্য করে। রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত যদি সবাই জানে তালে সবাই বেশি বেশি রক্তদান করতো।

রক্তদাতা দিবস

২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত জীবন বাঁচায়’ থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোকে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে প্রথম আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবস পালিত হয়।

 ১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। মানুষকে স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা মানুষ কে বেশি বেশি করে জানানোর চেষ্টা করবো।

 কখন বা কে রক্তদান করতে পারে

একজন রক্তদাতা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু যোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা জরুরি। যেমন:

আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আপনার ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি হতে হবে।

রক্তদানের সময় আপনার শরীর অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে।

 নিয়মিত রক্তদানের ক্ষেত্রে আপনাকে একবার রক্ত দেয়ার পর কমপক্ষে ৮ থেকে ১৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে পুনরায় রক্তদানের জন্য।

রক্তদানের জন্য আপনার রক্তে অবশ্যই ন্যূনতম হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ থাকতে হবে যেটি নারীদের জন্য ১২ গ্রাম/ডিএল এবং পুরুষদের জন্য ১৩ গ্রাম/ডিএল।

রক্তদাতা রক্তদেওয়ার পর রোগীর লোকের যা করা  উচিত 

👉ডোনারের যাতায়াত খরচ।


👉ডাব,স্যালাইন পানি,কিছু ফলমূল কিনে দেওয়ার খরচ দেয়াটা কমনসেন্সের ব্যাপার।


 👉পরবর্তী ২৪ ঘন্টা ডোনারের খোঁজ খবর রাখবেন।

সব শ্রেণীর মানুষই এই ভালোলাগা এবং ভালোবাসায় মহান কাজটি স্বেচ্ছায় করেন, তবে  যারা ব্লাড দেয় তারা বেশিরভাগই স্টুডেন্ট, মেসে থেকে পড়াশুনা করে। তারা প্রতিনিয়ত ব্লাড দেয়।

অনেক সময় দেখা যায় পরের দিন এক্সাম তবুও ব্লাড দেয়। আবার, যারা ব্লাড খুজে দেয় তারাই জানে ১ব্যাগ ব্লাড খুজে বের করা কতটা কষ্টের।

সময়, শ্রম দিয়ে ডোনারকে খুজে বের করতে হয়। অনেকেই তো সেগুলা জানেন ই না। এগুলা হাইড স্টোরি থাকে।

কিন্তু রোগীর রিলেটিভদের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিবেকহীনতার পরিচয় দেয়।

কোনো খোঁজ খবরই নিতে চায়না যে চরম এই বিপদের সময় এই রক্ত কোথা থেকে এলো।

একজনকে বলে দেয়, তারপর মনে হয় সব দায়ভার ঐ বেচারার। নিজের সম্মান রক্ষার জন্য হলেও ঐ বেচারা ডোনারকে কেয়ার করে।

অনেক ডোনার জবও করেনা। হয়তো আত্মীয় স্বজন, না হয় পরিচিত, নতুবা মানবতার জন্য মানুষের বিপদে এগিয়ে যায়।

নামীদামী হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেন,একদিনে ৩/৪ হাজার টাকা করে কেবিন ভাড়া দিতে পারেন।

কিন্তু যে মানুষটা তার শরীল থেকে মূল্যবান জিনিস দিয়ে আপনাকে হেল্প করছে,তার কদর করবেন না, তা হতে পারেনা।

যে দেশে ২৫০মিলি গ্রাম পানির বোতল ১৫ টাকা দিয়ে কিনে খেতে হয়,সে দেশে বিনা টাকায় ৪৫০ মিলি গ্রাম রক্ত দাতাকে সম্মান করা আপনার কর্তব্য।

রক্তদাতাদের যে সম্পর্কে একটু জেনে রাখা উচিত

অনেকের রক্ত দেওয়ার পর কারও হাতে এমন লাল বা কালচে রং এর দাগ দেখা দেয়, এতে অনেকে ভয় পেয়ে যায়।  তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

 এটা কোন সমস্যা নয়। ২/৩ দিনের মধ্যে কিংবা সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনিই সেরে যাবে এটা। এখন বলি এটা কেন হয়।

 কয়েকটা কারণ হয়ে থাকে
এটা অপ্রত্যাশিত । যখন প্রিক করা হয় তখন যদি ভেইন থেকে ব্লাড সাবকিউটেনিয়াস এ ঢুকে যায় তখন এভাবে ব্লাড টা ছড়িয়ে যায়,

 স্কিনের ভিতরে বা যখন নিডল টা বের করে তখনও এরকম হতে পারে।

তবে এটা দক্ষতা অদক্ষতার কিছু না। শতকরা ৪/৫ জনে এরকম হয়ে থাকে মাঝে মাঝে।

 ভয়ের কিছু নেই। ব্লাড টা ভিতরে জমাট বেধে আছে এভাবে। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন সময় লাগবে শুধুমাত্র।

আরো কিছু জানতে আগ্রহী এই ব্যাপারে তা হলো

১। আপনার এলার্জি থাকলে অনেকক্ষন টর্নিকুয়েট ( রক্ত দেয়ার সময় যে টিউব বা ফিতা দিয়ে হাত বাধা হয়) থাকার জন্য র্যাশ হতে পারে।

২। যে ব্যক্তি ব্লাড ড্র করছিল সে নিডল বের করার সময় ভুল করে কয়েক ফোটা রক্ত চামড়ার নিচে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে এমনটা হয়।

৩। নিডল খুলে নেয়ার পর অযথা ছিদ্র করা জায়গাটাতে মালিশ করলেও এমনটা দেখা যেতে পারে।

৪। এছাড়া অন্য যে কোন কারণে যদি চামড়ার নিচে রক্ত থেকে যায় তাহলেও এমন হতে পারে।

সাধারণত এমনটা দেখা যায় না। তবে যদি কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়েন তবে চিন্তার কিছু নেই।

আপনার হাতে বা চামড়া কোন কিছুর চাপ লাগলে যেমন ২/৩ দিনে ঠিক হয়ে যায় এটাও ঠিক তেমনই। শুধু হাতটা একটু কম নাড়াবেন।

 কারণ এই সময় হাত বেশি নাড়ালে অতিরিক্ত কিছু রক্ত আবার চামড়ার নিচে চলে আসতে পারে এবং আবারও একই অবস্থা দেখা যেতে পারে।

আরো পড়ুন   
এলার্জি কি কেন হয় কারণ গুলো জানুন
রাতে তারাতারি ঘুম আসার কিছু সহজ উপায়
ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ

রক্তদানের ফজিলত

‘একজন মানুষের জীবন রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করার মতো মহান কাজ।’-সূরা মায়েদা : ৩২

রক্তদানের ব্যাপারে ইসলামে কোনো বিধিনিষেধ নেই। রক্ত বিক্রয় বৈধ নয়। কিন্তু বিনামূল্যে রক্ত না পেলে রোগীর জন্য তা কেনা বৈধ

তবে রক্ত বিক্রেতা গুনাহগার হবেন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করতে পারে।

এতে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হয় না। রক্তদান করলে তা মানুষের উপকারে আসে। আর তাতে প্রচুর সওয়াবও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে রক্তদাতাও শারীরিক, মানসিক ও ইসলামী মূল্যবোধের দিক থেকে সুস্থ থাকেন।

একজন মুমূর্ষু মানুষকে রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করার ফজিলত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও ইসলামী

চেতনা প্রসারিত থাকলে পেশাদারদের রক্তের বিভীষিকা থেকে মুক্ত থাকতে পারত মানুষ।

উলেল্গখ্য, হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মৃত্যুপথযাত্রী একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর বিনিময়ে এক দেহ ব্যবসায়ী নারী জান্নাতের অধিকারী হয়েছে।’

 এর দ্বারা খুব সহজেই অনুমান করা যায়, সৃষ্টির প্রতি আল্লাহতায়ালার প্রেম ও দরদের পরিমাণ।

এমতাবস্থায় আশরাফুল মাখলুকাত মানুষকে রক্ত দিয়ে বাঁচতে সাহায্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে কত বড় একটি মহৎ কাজ_

 তা আর বিশেল্গষণ করে বলার অবকাশ নেই। হাদিসের আলোকে বলা যায়, হতে পারে স্বেচ্ছায় রক্তদান আমার-আপনার জান্নাতে যাওয়ার উসিলা।

 আর এটা যদি ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসার করা যায়, তাহলে খুব সহজেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রবণতা প্রবলভাবে তৈরি হবে সবার মাঝে।

যে প্রবণতাটা আজ সমাজের খুব বেশি দরকার। পৃথিবীতে অনেক মহৎ কাজ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম মহৎ কাজ হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান।

কারণ, রক্ত কোনো ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন হয় না, কেবল একজন মানুষের প্রয়োজনে আরেকজন মানুষ তা দিতে পারে।

 রক্তদান পরোপকারের একটি মাধ্যমও বটে। আর মানুষের উপকার প্রসঙ্গে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,

‘তোমাদের কেউ তার অপর ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।’-(মুসলিম শরিফ) তা আমরা রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

ব্লাড সেন্টার নদোনা নোয়াখালী

এটি একটি ওরাজনৈতিক সেচ্ছাসেবক  সংস্থা, এটি সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে নদোনা বাজারে কিছু যুবক শ্রেনির লোক, যখন তারা দেখলো অনেক মানুষ রক্তের অভাবে মারা যায়।

তাই তারা তাদের নিজ উদ্যোগে সংস্থাটি শুরু করে। আলহামদুলিল্লাহ এখন ব্লাড সেন্টার প্রায় ৬ হাজার এর বেশি রক্ত ব্যাগ মানুষকে মেনেজ করে দিয়েছে।

 আপনাদের করো কখনো যদি রক্তের প্রয়োজন হয়, তা হলে নিচে দেওয়া লিংক কে  গিয়ে যোগাযোগ করুন,

আপনার যে কোনো রক্ত গ্রুপ আমারা মেনেজ করে দিতে পারবো ইনশাহ আল্লাহ।

এই ধরনের আরো আপডেট পেতে আমার ওয়েবসাইট পহেল ডট ইনফো এর সাথে থাকুন এবং আমার ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

5 thoughts on “রক্তদানের উপকারিতা”

  1. Pingback: Healthy Food For Kids - Pohela.info

  2. Pingback: কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের গাইড - Pohela.info

  3. Pingback: দরখাস্ত লেখার নিয়ম ২০২১| আবেদন পত্র ও চিঠি লেখার নিয়ম - ইংরেজি ও বাংলায়

  4. Thank you, I’ve just been looking for info approximately this topic for ages and yours is the greatest I have found out till now. However, what concerning the conclusion? Are you sure in regards to the supply?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *